ফরিদপুরের সমরিতা জেনারেল হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের সময় প্রসূতির পেটে গজ কাপড় (সার্জিক্যাল মব) রেখে সেলাই করার কারণে দীর্ঘ দেড় মাস যন্ত্রণার পর কনিকা মন্ডল (৩৬) নামের এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। গত ১৯ আগস্ট ২০২৬ (বুধবার) দিবাগত রাতে ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর কাছে হোয়াটসঅ্যাপে এসে ডাক্তার ক্ষমা চেয়েছেন।
গত ২৯ জুন প্রসবব্যথা নিয়ে ফরিদপুর শহরের নিলটুলী মুজিব সড়ক সংলগ্ন সমরিতা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন কনিকা মন্ডল। সেদিন সন্ধ্যায় হাসপাতালের প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. লক্ষ্মী রানী দত্ত সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে তার একটি কন্যাসন্তান প্রসব করান
অপারেশনের পরদিনই কনিকার পেট ফুলে যায় এবং তীব্র যন্ত্রণা শুরু হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসককে জানানো হলে তারা বিষয়টিকে গুরুত্ব দেননি।
রোগীর অবস্থার অবনতি হলে ৩ জুলাই তাকে ঢাকার কল্যাণপুরের ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ৭ জুলাই পুনরায় অপারেশন করে তার পেট থেকে চিকিৎসকদের ফেলে রাখা প্রায় দেড় কেজি ওজনের গজ কাপড় বের করা হয়।
গজ বের করা হলেও ততক্ষণে রোগীর শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গের মারাত্মক ক্ষতি হয়ে যায়। টানা ৪৮ দিন আইসিইউ এবং সাধারণ ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন থাকার পর অবশেষে তিনি মারা যান।
রোগীর মৃত্যুর পর অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. লক্ষ্মী রানী দত্ত নিহতের স্বামীর হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠিয়ে নিজের ভুল স্বীকার করেন। তিনি লেখেন, “ভুল মানুষেরই হয়, অনেক ঝামেলার মধ্যে থেকে তিনি ভুল করেছেন” এবং বারবার ক্ষমা চান। তবে নিহতের পরিবার এই ক্ষমায় সন্তুষ্ট নয় এবং তারা চিকিৎসকের চরম অবহেলাকে দায়ী করছেন।
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি